ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় ২০২৩ | Youtube video viral trick bangla
এই পোস্ট থেকে জানতে পারবেন ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় কি এবং কিছু গোপন ট্রিক্স।
আসসালামুয়ালাইকুম! আপনি নিশ্চয় অনেক কষ্ট করে ইউটিউব ভিডিও তৈরি করেন। কিন্তু অনেক পরিশ্রমের পরেও ভিডিওতে ভিউ হয় না এবং ভিডিও ভাইরাল হয় না। ফলে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি এবং ভেবে উঠতে পারিনা কি করা প্রয়োজন। চিন্তার কোন কারণ নেই, আজকের এই পোস্টটা মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ ফলো করুন তাহলে আপনি জানতে পারবেন যে, ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় এবং ভিডিও ভাইরাল করার কিছু গোপন ট্রিক্সস শেয়ার করবো।
ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় | Youtube Video SEO Tips
একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে যে কেউ ভিডিও আপলোড করতে পারেন। কিন্তু একজন সফল ইউটিউবার হতে হলে অনেক বিষয় জেনে ইউটিউবে কাজ করতে হয়। শুধু ইউটিউবে ভিডিও পাবলিশ করলেই হবে না ইউটিউবের বেশ কিছু নিয়মকানুন আছে। ইউটিউব এর এলগরিদম এবং এসইও সম্পর্কে আপনাকে জানতে ও বুঝতে হবে। চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় ফিরে যাই।
ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় | Youtube Video SEO Tips
ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করতে হলে আপনাকে নিচের পদক্ষেপ গুলি মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করতে হবে। প্রত্যেকটা স্টেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি অবশ্যই ইউটিউব এ সাকসেস হতে পারবেন।
ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় ২০২৩ | Youtube video viral trick bangla
সঠিক ভিডিও টপিক ও ক্যাটাগরি নির্বাচন
ইউটিউবে প্রতিদিন হাজার হাজার ভিডিও আপলোড হয়। এর মধ্যে কিছু ভিডিও রাঙ্কে যায় আর বাকি ভিডিও ডাউন হয়ে যায়। যার ভিডিও টপিক এবং ক্যাটাগরি ভালো সেই ভিডিওটি ট্রেন্ডিং এবং রেঙ্কে চলে যায়।
আপনাকে এমন ভিডিও টপিক নির্বাচন করতে হবে যেন সেই টপিকে ভিডিও বানালে মানুষ দেখে। আপনার ভিডিওটা যদি ১০০ জন মানুষের কাছে ইউটিউব শো করায় তাহলে যেন অন্তত ১০ জন মানুষ ভিডিওটি দেখার জন্য ক্লিক করে। আর ইউটিউব এর অ্যালগরিদম এভাবেই সেট করা আছে।
যে ভিডিওতে যত ক্লিক বেশি হবে অর্থাৎ সিটিআর বৃদ্ধি পাবে সেই ভিডিওটি বেশি বেশি রেকমেন্ডেশন করবে। মন যেটাই চাইল সেই টপিকে ভিডিও বানালে হবে না। আপনাকে ভিডিও বানানোর আগে ভাবতে হবে যে এই ভিডিওটি বানালে মানুষ দেখবে কিনা, কিংবা মানুষের উপকার হবে কিনা।
ভিডিওর প্রথম অংশে বারবার সাবস্ক্রাইব করার কথা না বলা
অনেক ইউটিউবার একটা বেশি ভুল করে থাকেন সেটা হচ্ছে ভিডিওর প্রথম অংশে সাবস্ক্রাইব করার কথা বলতে বলতে দর্শকের মাথা খেয়ে ফেলেন। এতে বেশিরভাগ দর্শক বিরক্ত হয়ে ভিডিও টেনে টেনে দেখেন।
অনেকেই যেটা করেন সেটা হলো ভিডিওর প্রথম অংশে বারবার বলতে যে সাবস্ক্রাইব করুন, লাইক করুন, শেয়ার করুন, কমেন্ট করুন, ভিডিওটি এক সেকেন্ডও মিস করবেন না, ভিডিওটি পুরো দেখুন, টেনে টেনে দেখবেন না ইত্যাদি। এই কথাগুলো একদম বিরক্তিকর কথা। এই কথাগুলো বলে কোন লাভ নেই কারণ যে সাবস্ক্রাইব করবে সে এমনিতেই সাবস্ক্রাইব করবে। আপনার ভিডিওর কোয়ালিটি ভালো হলে এমনিতেই মানুষ লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন বলতে হবে না।
এইসব কথা ভিডিওর শেষের দিকে বলতে পারেন। তবে এসব কথা প্রথমে বললে মানুষ বিরক্ত হয়ে ভিডিও ছেড়ে চলে যেতে পারে অথবা ভিডিও টেনে সামনে যাবে। ফলে ভিডিওটা রেঙ্ক করবে না।
ভিডিওর প্রথম অংশ ইন্টারেস্টিং করা
একজন দর্শক ভিডিওর প্রথম ৩০ সেকেন্ড দেখেই সিদ্ধান্ত নেয় সে পুরো ভিডিওটা দেখবে কিনা। তাই আপনি ভিডিও শুটিং বা এডিটিং করার সময় অবশ্যই ভিডিওর প্রথম পার্টটুকু যেন খুবই যুক্তিযুক্ত এবং ইন্টারেস্টিং হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ভিডিওর প্রথম অংশটুকু যতটা ইন্টারেস্টিং অর্থাৎ দশকে ধরে রাখার মত যেন হয় তাহলে সেই ভিডিওটা মানুষ পুরা দেখবে।
ফলে ইউটিউব অ্যালগোরিদম বুঝতে পারবে যে আপনার ওই ভিডিওটা অনেক ভালো, মানুষ অনেক সময় ধরে দেখেছে। ফলে ভিডিওটা ভাইরাল হওয়ার চান্স থাকে।
অনেক ইউটিউবার আছে যারা ভিডিওর প্রথম অংশটুকু আবোলতাবোল কথা বলে পার করে দেয়। ফলে সেই ভিডিওটা মানুষ পুরা দেখেনা, টেনে টেনে দেখে। ফলে ইউটিউব এর কাছে একটা ব্যাড সিগন্যাল যায় যে এই ভিডিওতে সমস্যা আছে কারণ দর্শকরা টেনে দেখেছেন।
ট্রেন্ডিং টপিকে ভিডিও তৈরি করা
ভিডিও ভাইরাল করার সব থেকে বড় একটি গোপন টিপস হচ্ছে ট্রেন্ডিং বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে থাকা। কোন একটা বিষয় সব থেকে বেশি ভাইরাল হলে সেই বিষয়টি নিয়ে আপনি ভিডিও বানাতে থাকবেন। উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনি টেকনোলজি বিষয়ে ভিডিও বানান।
এখন ট্রেন্ডিং একটা বিষয় যেমন ফেসবুকের প্রফেশনাল মুড কিভাবে চালু করতে হয়। এই টপিকে যদি আপনি ভিডিও বানান তাহলে অবশ্যই আপনি ভিডিওতে ভালো পরিমাণে ভিউজ পাবেন এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ মানুষ নতুন কোন একটা কিছু আসলে সেটা ইউটিউবে প্রচুর সার্চ করে এবং ইউটিউবে সেই ধরনের ভিডিও দেখলেই ক্লিক করবে।
তাই চেষ্টা করবেন সব সময় ট্রেনিং টপিক খোঁজার এবং সেই টপিক এ ভিডিও বানানোর। একটা ভিডিও আপনার যদি ভাইরাল হয়ে যায় তাহলে আপনার বাকি অন্যান্য সকল ভিডিওতে ভিউস আসা শুরু করবে।
ভিডিওর ওয়াচ টাইম এর উপর নজর দেওয়া
ইউটিউব সব সময় ওয়াচ টাইম এর উপর বেশি গুরুত্ব দেয়। আপনার ভিডিওটা যদি পাঁচ মিনিটের হয় তাহলে যেন দর্শকরা কমপক্ষে দুই মিনিট করে দেখে। আপনার ভিডিওটা যদি 30 সেকেন্ড ও না দেখে তাহলে ইউটিউব বুঝে নিবে আপনার ভিডিওটা ভালো। কারন মানুষ বেশি সময় ধরে দেখেনি। ফলে আপনার ভিডিওটা রেঙ্কে যদিও যায় তাহলে র্যাংকিং থেকে থামিয়ে দেওয়া হবে।
তাই চেষ্টা করুন যেভাবেই হোক দর্শককে যেন পুরো ভিডিওতে ধরে রাখা যায় ভিডিও প্রফেশনাল ভাবে এডিটিং করুন এবং লম্বা ভিডিও তৈরি করার চেষ্টা করুন।
বড় দৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরি করুন
ইউটিউবেই ছোট ভিডিও গুলো খুবই কম পরিমাণে ভাইরাল হয়। তাই আপনারা ভিডিও তৈরি করার সময় অবশ্যই চেষ্টা করবেন লম্বা ভিডিও তৈরি করার। লম্বা ভিডিও গুলো একটু বেশি বেশি রেকমেন্ডেশন করে। আর লম্বা ভিডিওতে ওয়াচ টাইম প্রচুর জেনারেট করা সম্ভব হয় তাই ভিডিও ভাইরাল করার জন্য চেষ্টা করুন কমপক্ষে ৫ থেকে ৮ মিনিটের উপরে ভিডিও তৈরি করার। তবে ভিডিও লম্বা করে তৈরি করতে গিয়ে ভিডিওর ভিতরে আজে বাজে বা বিরক্তিকর কোন সিন যেন না থাকে। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
কোয়ালিটি ফুল ভিডিও তৈরি করুন
আপনি অনেক কষ্ট করে ভিডিও তৈরি করেন ঠিকই কিন্তু ভিডিওতে কোয়ালিটি দিতে পারেন না। তাহলে কোন লাভ নেই। কোয়ালিটি ছাড়া ভিডিও কখনো চলবে না। যদিও সেই ভিডিওটা ভাইরাল হয় কোনদিন তাহলে সাথে সাথে সেটা থেমে যাবে। কোয়ালিটি ফুল মানেই যে ভিডিও চকচকে তা নয়। কোয়ালিটি ফুল ভিডিও অর্থ হচ্ছে ভিডিওতে কেউ যদি ক্লিক করে সে যেন পুরো ভিডিওটা দেখে এবং ভিডিওর কোথাও যেন বিরক্তি ফিল না করে।
সুন্দরভাবে ভিডিও এডিটিং করতে হবে। ভিডিওতে ট্রান্সলেশন এফেক্ট, সাউন্ড ইফেক্ট ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, লাইট ইফেক্ট ইত্যাদি ব্যবহার করবেন। এতে ভিডিও কোয়ালিটি সুন্দর দেখাবে এবং দর্শকের কাছে ভালো লাগবে। ফলে ইউটিউবে আপনার একটা জনপ্রিয়তা বা ব্র্যান্ডিং তৈরি হবে। পরবর্তী ভিডিও গুলো আপনার সাবস্ক্রাইবাররা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকবে।
ভিডিওর ভয়েস কোয়ালিটি সুন্দর করুন
ভিডিওতে যদি আপনার ভয়েস কোয়ালিটি খুবই বাজে থাকে তাহলে সেই ভিডিওটা মানুষ পছন্দ করবে না। ভিডিওতে যদি আপনি মেনো মেনো করে কথা বলেন তাহলে দর্শকরা বুঝবে এই ভিডিওতে তেমন দম নেই। ভিডিও শুট করার সময় ভিডিওতে স্মার্ট ভাষায় সুর দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি করে ভয়েস দিবেন।
অনেকেই ভিডিও তৈরি করার সময় কেমন করে যেন কথা বলে ভালো লাগে না শুনতে। আর যদি ভিডিওর ভয়েস কোয়ালিটি একটু মিষ্টি কোমল ভাষায় সুন্দর করে দেওয়া হয় তাহলে ভিডিওর কোয়ালিটি খারাপ হলেও মানুষ ভিডিওটা কন্টিনিউ করতে চায়।
ভিডিওটা এডিট করার সময় ভয়েস এডিট করতে পারেন। ভয়েস এডিট করার জন্য প্লে স্টোরে অনেক অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। তবে আমি পার্সোনালি ভয়েস এডিট করার জন্য Dolby On অ্যাপসটি ব্যবহার করি। তাছাড়া Lexis Audio Editor এই অ্যাপ দিয়েও ভয়েস সুন্দর এডিট করা যায়। কম্পিউটার হলে audacity সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। কিভাবে ভয়েস এডিট করতে হয় এটা নিয়ে ইউটিউবে সার্চ করলে আপনি বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও পাবেন সেগুলো দেখে শিখতে পারেন।
ভয়েস কোয়ালিটি কে সুন্দর করার জন্য মাইক্রোফোন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাইক্রোফোন দিয়ে ভয়েস রেকর্ড করলে সেই ভয়েসটা তুলনামূলক অনেক ক্লিয়ার এবং অনেক মিষ্টি শোনা যায় ফলে মানুষ বেশি সময় ধরে ভিডিওতে থাকে। মাইক্রোফোন হিসেবে আপনারা Boya By M1 কিংবা Mouno A04 ব্যবহার করতে পারেন।
আকর্ষণীয় এবং ক্লিকেবল থাম্বনেল ব্যবহার করা
মনে রাখবেন একটা আকর্ষণীয় এবং ক্লিক বেড থাম্নেল একটা ভিডিওকে ভাইরাল করার জন্য যথেষ্ট। আপনি থামনেল যতটা আকর্ষণীয় এবং চাকচিক্য করে তুলবেন তত বেশি ভিউজ পাবেন। ধরুন বাজারে অনেকগুলো দোকান আছে। এখন মানুষ যে দোকানটা বেশি চাকচিক্য দেখবে সেই দোকানে যেতে চাইবে। ঠিক তেমনি কেউ যদি ইউটিউবে কোন ভিডিও সার্চ করে আপনার থাম্বেল টা যদি তার ভালো লাগে তাহলে আপনার ভিডিওতে ক্লিক করবে।
থাম্বনেল এ চেষ্টা করবেন দর্শকে আকর্ষিত করার মত কিছু লেখা। তবে মিস লিডিং করা যাবে না তাহলে স্ট্রাইক খেয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ ভিডিওতে যা দেখাবেন থাম্বনেল এ তা লিখবেন। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটিয়ে লিখবেন যাতে মানুষ লেখাটা পড়েই ক্লিক করতে চায়। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি ভিডিও তৈরি করেন মেসেঞ্জারের ৫টি সেটিং নিয়ে। তাহলে আপনি থাম্বনেল এ মেসেঞ্জারের পাঁচটি সেটিং না লিখে লিখবেন মেসেঞ্জারের পাঁচটি ম্যাজিক। এটা একটা উদাহরণ।
সঠিক টাইটেল নির্বাচন করা
যদি আপনি টেকনোলজি মুলক ভিডিও তৈরি করেন তাহলে টাইটেল গুলো কিওয়ার্ড রিসার্চ করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে youtube সার্চ থেকে আপনার ভিডিওতে ভিউজ আসার সম্ভাবনা থাকবে। আর যদি ইনফোগ্রাফি কনটেন্ট হয় তাহলে অবশ্যই সেটা আপনার ভাষায় লিখবেন। বাংলায় লিখলে বেশি ভালো হবে।
খুবই আকর্ষণীয় ভাবে টাইটেল লিখলে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর পাবেন। কারণ মানুষ প্রথমে দেখে থামনেল তারপরেই দেখে টাইটেল। যদি টাইটেল ভালো হয় তাহলে মানুষ ক্লিক করতে চায়। দর্শকে যদি টাইটেল পড়ে ভালো না লাগে তাহলে ক্লিক করবেনা ফলে ভিউজ আসবে না।
সঠিকভাবে ভিডিও এসিও করা
একটি ভিডিওকে ইউটিউব সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে আনতে হলে ভিডিওতে এসিও করা বাধ্যতামূলক। তবে যদি আপনার ভিডিও একদম ইউনিক এবং ইনফরমেটিভ অর্থাৎ বেশি সময় ধরে মানুষ দেখে তাহলে youtube অটোমেটিক সার্চ রেজাল্ট এ উপরে তুলে দিবে। তবে ইউটিউবের সার্চ রেজাল্ট থেকে ভিউস আসলে আপনি প্রতিদিন অর্থাৎ লাইফ টাইম ভিউ পেতে থাকবেন। তাই সঠিক টাইটেল, সঠিকভাবে ডেসক্রিপশন এবং ট্যাগ ও হ্যাশট্যাগ ইউজ করতে হবে।
ট্যাগ টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন আপনারা যেভাবে নিলে বেশি কার্যকর হবে তা হলো ইউটিউবে আপনি আপনার টপিক সার্চ করলে যে ভিডিও গুলো প্রথম দিকে আসে সেই ভিডিওগুলোর ট্যাগ টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন কপি করে আপনার ভিডিওতে ব্যবহার করবেন। এতে আপনার ভিডিও রেঙ্কে যাওয়া সম্ভাবনা থাকবে।
ভিডিওতে ইন্ডস্ক্রিন ও আই কার্ড ব্যবহার করা
ভিডিওতে অবশ্যই ইন্ডস্ক্রিন এবং আই কার্ড ব্যবহার করবেন। কারণ আপনার একটা ভিডিও দেখার পর দর্শকরা যদি আপনার পরবর্তীতে আরেকটা ভিডিও দেখে তাহলে আপনার ভিডিও রাংকে যাবে। কারণ ইউটিউব এটাই চায় যেন দর্শকরা আপনার ভিডিওগুলো পছন্দ করে এবং এক ভিডিও থেকে আরেক ভিডিও দেখে।
এই বিষয়টা অনেক মানুষই এখন পর্যন্ত জানে না বা এটা করে না। ইউটিউবে ভিডিও ভাইরাল করার জন্য আপনারা যতটা পারেন যেভাবে পারেন দর্শক কে বলবেন যেন আপনার অন্যান্য ভিডিওগুলো দেখে। আই কার্ডে একটা ভিডিও দিয়ে বলবেন আপনারা ওই ভিডিওটি দেখে না থাকলে দেখে নিবেন।
এইভাবে যতটা সম্ভব দর্শককে ভিডিও দেখানোর জন্য সাজেস্ট করবেন। ফলে আপনার যে কোন একটা ভিডিও যদি ভাইরাল হয় তাহলে বাকি সব ভিডিওতে অটোমেটিক ভিউজ আসা শুরু হয়ে যাবে।
শেষ কথা
ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিও যেকোনো ব্যক্তি আপলোড করতে পারেন। কিন্তু উপরের নিয়ম গুলো না মেনে চললে কোনদিন সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই একজন সফল ইউটিউবার হতে হলে অবশ্যই আপনাকে এই বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে। ১০০% গ্যারান্টি দিতে পারি উপরের বিষয়গুলো যদি আপনি ফলো করে ইউটিউবে কাজ করেন তাহলে আপনার সফলতা কেউ আটকে রাখতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ।
আসসালামুয়ালাইকুম! আপনি নিশ্চয় অনেক কষ্ট করে ইউটিউব ভিডিও তৈরি করেন। কিন্তু অনেক পরিশ্রমের পরেও ভিডিওতে ভিউ হয় না এবং ভিডিও ভাইরাল হয় না। ফলে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি এবং ভেবে উঠতে পারিনা কি করা প্রয়োজন। চিন্তার কোন কারণ নেই, আজকের এই পোস্টটা মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ ফলো করুন তাহলে আপনি জানতে পারবেন যে, ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় এবং ভিডিও ভাইরাল করার কিছু গোপন ট্রিক্সস শেয়ার করবো।
ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় | Youtube Video SEO Tips
একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে যে কেউ ভিডিও আপলোড করতে পারেন। কিন্তু একজন সফল ইউটিউবার হতে হলে অনেক বিষয় জেনে ইউটিউবে কাজ করতে হয়। শুধু ইউটিউবে ভিডিও পাবলিশ করলেই হবে না ইউটিউবের বেশ কিছু নিয়মকানুন আছে। ইউটিউব এর এলগরিদম এবং এসইও সম্পর্কে আপনাকে জানতে ও বুঝতে হবে। চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় ফিরে যাই।
ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় | Youtube Video SEO Tips
ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করতে হলে আপনাকে নিচের পদক্ষেপ গুলি মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করতে হবে। প্রত্যেকটা স্টেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি অবশ্যই ইউটিউব এ সাকসেস হতে পারবেন।
ইউটিউব ভিডিও ভাইরাল করার উপায় ২০২৩ | Youtube video viral trick bangla
সঠিক ভিডিও টপিক ও ক্যাটাগরি নির্বাচন
ইউটিউবে প্রতিদিন হাজার হাজার ভিডিও আপলোড হয়। এর মধ্যে কিছু ভিডিও রাঙ্কে যায় আর বাকি ভিডিও ডাউন হয়ে যায়। যার ভিডিও টপিক এবং ক্যাটাগরি ভালো সেই ভিডিওটি ট্রেন্ডিং এবং রেঙ্কে চলে যায়।
আপনাকে এমন ভিডিও টপিক নির্বাচন করতে হবে যেন সেই টপিকে ভিডিও বানালে মানুষ দেখে। আপনার ভিডিওটা যদি ১০০ জন মানুষের কাছে ইউটিউব শো করায় তাহলে যেন অন্তত ১০ জন মানুষ ভিডিওটি দেখার জন্য ক্লিক করে। আর ইউটিউব এর অ্যালগরিদম এভাবেই সেট করা আছে।
যে ভিডিওতে যত ক্লিক বেশি হবে অর্থাৎ সিটিআর বৃদ্ধি পাবে সেই ভিডিওটি বেশি বেশি রেকমেন্ডেশন করবে। মন যেটাই চাইল সেই টপিকে ভিডিও বানালে হবে না। আপনাকে ভিডিও বানানোর আগে ভাবতে হবে যে এই ভিডিওটি বানালে মানুষ দেখবে কিনা, কিংবা মানুষের উপকার হবে কিনা।
ভিডিওর প্রথম অংশে বারবার সাবস্ক্রাইব করার কথা না বলা
অনেক ইউটিউবার একটা বেশি ভুল করে থাকেন সেটা হচ্ছে ভিডিওর প্রথম অংশে সাবস্ক্রাইব করার কথা বলতে বলতে দর্শকের মাথা খেয়ে ফেলেন। এতে বেশিরভাগ দর্শক বিরক্ত হয়ে ভিডিও টেনে টেনে দেখেন।
অনেকেই যেটা করেন সেটা হলো ভিডিওর প্রথম অংশে বারবার বলতে যে সাবস্ক্রাইব করুন, লাইক করুন, শেয়ার করুন, কমেন্ট করুন, ভিডিওটি এক সেকেন্ডও মিস করবেন না, ভিডিওটি পুরো দেখুন, টেনে টেনে দেখবেন না ইত্যাদি। এই কথাগুলো একদম বিরক্তিকর কথা। এই কথাগুলো বলে কোন লাভ নেই কারণ যে সাবস্ক্রাইব করবে সে এমনিতেই সাবস্ক্রাইব করবে। আপনার ভিডিওর কোয়ালিটি ভালো হলে এমনিতেই মানুষ লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন বলতে হবে না।
এইসব কথা ভিডিওর শেষের দিকে বলতে পারেন। তবে এসব কথা প্রথমে বললে মানুষ বিরক্ত হয়ে ভিডিও ছেড়ে চলে যেতে পারে অথবা ভিডিও টেনে সামনে যাবে। ফলে ভিডিওটা রেঙ্ক করবে না।
ভিডিওর প্রথম অংশ ইন্টারেস্টিং করা
একজন দর্শক ভিডিওর প্রথম ৩০ সেকেন্ড দেখেই সিদ্ধান্ত নেয় সে পুরো ভিডিওটা দেখবে কিনা। তাই আপনি ভিডিও শুটিং বা এডিটিং করার সময় অবশ্যই ভিডিওর প্রথম পার্টটুকু যেন খুবই যুক্তিযুক্ত এবং ইন্টারেস্টিং হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ভিডিওর প্রথম অংশটুকু যতটা ইন্টারেস্টিং অর্থাৎ দশকে ধরে রাখার মত যেন হয় তাহলে সেই ভিডিওটা মানুষ পুরা দেখবে।
ফলে ইউটিউব অ্যালগোরিদম বুঝতে পারবে যে আপনার ওই ভিডিওটা অনেক ভালো, মানুষ অনেক সময় ধরে দেখেছে। ফলে ভিডিওটা ভাইরাল হওয়ার চান্স থাকে।
অনেক ইউটিউবার আছে যারা ভিডিওর প্রথম অংশটুকু আবোলতাবোল কথা বলে পার করে দেয়। ফলে সেই ভিডিওটা মানুষ পুরা দেখেনা, টেনে টেনে দেখে। ফলে ইউটিউব এর কাছে একটা ব্যাড সিগন্যাল যায় যে এই ভিডিওতে সমস্যা আছে কারণ দর্শকরা টেনে দেখেছেন।
ট্রেন্ডিং টপিকে ভিডিও তৈরি করা
ভিডিও ভাইরাল করার সব থেকে বড় একটি গোপন টিপস হচ্ছে ট্রেন্ডিং বিষয় নিয়ে ভিডিও বানাতে থাকা। কোন একটা বিষয় সব থেকে বেশি ভাইরাল হলে সেই বিষয়টি নিয়ে আপনি ভিডিও বানাতে থাকবেন। উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনি টেকনোলজি বিষয়ে ভিডিও বানান।
এখন ট্রেন্ডিং একটা বিষয় যেমন ফেসবুকের প্রফেশনাল মুড কিভাবে চালু করতে হয়। এই টপিকে যদি আপনি ভিডিও বানান তাহলে অবশ্যই আপনি ভিডিওতে ভালো পরিমাণে ভিউজ পাবেন এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ মানুষ নতুন কোন একটা কিছু আসলে সেটা ইউটিউবে প্রচুর সার্চ করে এবং ইউটিউবে সেই ধরনের ভিডিও দেখলেই ক্লিক করবে।
তাই চেষ্টা করবেন সব সময় ট্রেনিং টপিক খোঁজার এবং সেই টপিক এ ভিডিও বানানোর। একটা ভিডিও আপনার যদি ভাইরাল হয়ে যায় তাহলে আপনার বাকি অন্যান্য সকল ভিডিওতে ভিউস আসা শুরু করবে।
ভিডিওর ওয়াচ টাইম এর উপর নজর দেওয়া
ইউটিউব সব সময় ওয়াচ টাইম এর উপর বেশি গুরুত্ব দেয়। আপনার ভিডিওটা যদি পাঁচ মিনিটের হয় তাহলে যেন দর্শকরা কমপক্ষে দুই মিনিট করে দেখে। আপনার ভিডিওটা যদি 30 সেকেন্ড ও না দেখে তাহলে ইউটিউব বুঝে নিবে আপনার ভিডিওটা ভালো। কারন মানুষ বেশি সময় ধরে দেখেনি। ফলে আপনার ভিডিওটা রেঙ্কে যদিও যায় তাহলে র্যাংকিং থেকে থামিয়ে দেওয়া হবে।
তাই চেষ্টা করুন যেভাবেই হোক দর্শককে যেন পুরো ভিডিওতে ধরে রাখা যায় ভিডিও প্রফেশনাল ভাবে এডিটিং করুন এবং লম্বা ভিডিও তৈরি করার চেষ্টা করুন।
বড় দৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরি করুন
ইউটিউবেই ছোট ভিডিও গুলো খুবই কম পরিমাণে ভাইরাল হয়। তাই আপনারা ভিডিও তৈরি করার সময় অবশ্যই চেষ্টা করবেন লম্বা ভিডিও তৈরি করার। লম্বা ভিডিও গুলো একটু বেশি বেশি রেকমেন্ডেশন করে। আর লম্বা ভিডিওতে ওয়াচ টাইম প্রচুর জেনারেট করা সম্ভব হয় তাই ভিডিও ভাইরাল করার জন্য চেষ্টা করুন কমপক্ষে ৫ থেকে ৮ মিনিটের উপরে ভিডিও তৈরি করার। তবে ভিডিও লম্বা করে তৈরি করতে গিয়ে ভিডিওর ভিতরে আজে বাজে বা বিরক্তিকর কোন সিন যেন না থাকে। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
কোয়ালিটি ফুল ভিডিও তৈরি করুন
আপনি অনেক কষ্ট করে ভিডিও তৈরি করেন ঠিকই কিন্তু ভিডিওতে কোয়ালিটি দিতে পারেন না। তাহলে কোন লাভ নেই। কোয়ালিটি ছাড়া ভিডিও কখনো চলবে না। যদিও সেই ভিডিওটা ভাইরাল হয় কোনদিন তাহলে সাথে সাথে সেটা থেমে যাবে। কোয়ালিটি ফুল মানেই যে ভিডিও চকচকে তা নয়। কোয়ালিটি ফুল ভিডিও অর্থ হচ্ছে ভিডিওতে কেউ যদি ক্লিক করে সে যেন পুরো ভিডিওটা দেখে এবং ভিডিওর কোথাও যেন বিরক্তি ফিল না করে।
সুন্দরভাবে ভিডিও এডিটিং করতে হবে। ভিডিওতে ট্রান্সলেশন এফেক্ট, সাউন্ড ইফেক্ট ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, লাইট ইফেক্ট ইত্যাদি ব্যবহার করবেন। এতে ভিডিও কোয়ালিটি সুন্দর দেখাবে এবং দর্শকের কাছে ভালো লাগবে। ফলে ইউটিউবে আপনার একটা জনপ্রিয়তা বা ব্র্যান্ডিং তৈরি হবে। পরবর্তী ভিডিও গুলো আপনার সাবস্ক্রাইবাররা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকবে।
ভিডিওর ভয়েস কোয়ালিটি সুন্দর করুন
ভিডিওতে যদি আপনার ভয়েস কোয়ালিটি খুবই বাজে থাকে তাহলে সেই ভিডিওটা মানুষ পছন্দ করবে না। ভিডিওতে যদি আপনি মেনো মেনো করে কথা বলেন তাহলে দর্শকরা বুঝবে এই ভিডিওতে তেমন দম নেই। ভিডিও শুট করার সময় ভিডিওতে স্মার্ট ভাষায় সুর দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি করে ভয়েস দিবেন।
অনেকেই ভিডিও তৈরি করার সময় কেমন করে যেন কথা বলে ভালো লাগে না শুনতে। আর যদি ভিডিওর ভয়েস কোয়ালিটি একটু মিষ্টি কোমল ভাষায় সুন্দর করে দেওয়া হয় তাহলে ভিডিওর কোয়ালিটি খারাপ হলেও মানুষ ভিডিওটা কন্টিনিউ করতে চায়।
ভিডিওটা এডিট করার সময় ভয়েস এডিট করতে পারেন। ভয়েস এডিট করার জন্য প্লে স্টোরে অনেক অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। তবে আমি পার্সোনালি ভয়েস এডিট করার জন্য Dolby On অ্যাপসটি ব্যবহার করি। তাছাড়া Lexis Audio Editor এই অ্যাপ দিয়েও ভয়েস সুন্দর এডিট করা যায়। কম্পিউটার হলে audacity সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। কিভাবে ভয়েস এডিট করতে হয় এটা নিয়ে ইউটিউবে সার্চ করলে আপনি বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও পাবেন সেগুলো দেখে শিখতে পারেন।
ভয়েস কোয়ালিটি কে সুন্দর করার জন্য মাইক্রোফোন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাইক্রোফোন দিয়ে ভয়েস রেকর্ড করলে সেই ভয়েসটা তুলনামূলক অনেক ক্লিয়ার এবং অনেক মিষ্টি শোনা যায় ফলে মানুষ বেশি সময় ধরে ভিডিওতে থাকে। মাইক্রোফোন হিসেবে আপনারা Boya By M1 কিংবা Mouno A04 ব্যবহার করতে পারেন।
আকর্ষণীয় এবং ক্লিকেবল থাম্বনেল ব্যবহার করা
মনে রাখবেন একটা আকর্ষণীয় এবং ক্লিক বেড থাম্নেল একটা ভিডিওকে ভাইরাল করার জন্য যথেষ্ট। আপনি থামনেল যতটা আকর্ষণীয় এবং চাকচিক্য করে তুলবেন তত বেশি ভিউজ পাবেন। ধরুন বাজারে অনেকগুলো দোকান আছে। এখন মানুষ যে দোকানটা বেশি চাকচিক্য দেখবে সেই দোকানে যেতে চাইবে। ঠিক তেমনি কেউ যদি ইউটিউবে কোন ভিডিও সার্চ করে আপনার থাম্বেল টা যদি তার ভালো লাগে তাহলে আপনার ভিডিওতে ক্লিক করবে।
থাম্বনেল এ চেষ্টা করবেন দর্শকে আকর্ষিত করার মত কিছু লেখা। তবে মিস লিডিং করা যাবে না তাহলে স্ট্রাইক খেয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ ভিডিওতে যা দেখাবেন থাম্বনেল এ তা লিখবেন। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটিয়ে লিখবেন যাতে মানুষ লেখাটা পড়েই ক্লিক করতে চায়। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি ভিডিও তৈরি করেন মেসেঞ্জারের ৫টি সেটিং নিয়ে। তাহলে আপনি থাম্বনেল এ মেসেঞ্জারের পাঁচটি সেটিং না লিখে লিখবেন মেসেঞ্জারের পাঁচটি ম্যাজিক। এটা একটা উদাহরণ।
সঠিক টাইটেল নির্বাচন করা
যদি আপনি টেকনোলজি মুলক ভিডিও তৈরি করেন তাহলে টাইটেল গুলো কিওয়ার্ড রিসার্চ করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে youtube সার্চ থেকে আপনার ভিডিওতে ভিউজ আসার সম্ভাবনা থাকবে। আর যদি ইনফোগ্রাফি কনটেন্ট হয় তাহলে অবশ্যই সেটা আপনার ভাষায় লিখবেন। বাংলায় লিখলে বেশি ভালো হবে।
খুবই আকর্ষণীয় ভাবে টাইটেল লিখলে প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর পাবেন। কারণ মানুষ প্রথমে দেখে থামনেল তারপরেই দেখে টাইটেল। যদি টাইটেল ভালো হয় তাহলে মানুষ ক্লিক করতে চায়। দর্শকে যদি টাইটেল পড়ে ভালো না লাগে তাহলে ক্লিক করবেনা ফলে ভিউজ আসবে না।
সঠিকভাবে ভিডিও এসিও করা
একটি ভিডিওকে ইউটিউব সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে আনতে হলে ভিডিওতে এসিও করা বাধ্যতামূলক। তবে যদি আপনার ভিডিও একদম ইউনিক এবং ইনফরমেটিভ অর্থাৎ বেশি সময় ধরে মানুষ দেখে তাহলে youtube অটোমেটিক সার্চ রেজাল্ট এ উপরে তুলে দিবে। তবে ইউটিউবের সার্চ রেজাল্ট থেকে ভিউস আসলে আপনি প্রতিদিন অর্থাৎ লাইফ টাইম ভিউ পেতে থাকবেন। তাই সঠিক টাইটেল, সঠিকভাবে ডেসক্রিপশন এবং ট্যাগ ও হ্যাশট্যাগ ইউজ করতে হবে।
ট্যাগ টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন আপনারা যেভাবে নিলে বেশি কার্যকর হবে তা হলো ইউটিউবে আপনি আপনার টপিক সার্চ করলে যে ভিডিও গুলো প্রথম দিকে আসে সেই ভিডিওগুলোর ট্যাগ টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন কপি করে আপনার ভিডিওতে ব্যবহার করবেন। এতে আপনার ভিডিও রেঙ্কে যাওয়া সম্ভাবনা থাকবে।
ভিডিওতে ইন্ডস্ক্রিন ও আই কার্ড ব্যবহার করা
ভিডিওতে অবশ্যই ইন্ডস্ক্রিন এবং আই কার্ড ব্যবহার করবেন। কারণ আপনার একটা ভিডিও দেখার পর দর্শকরা যদি আপনার পরবর্তীতে আরেকটা ভিডিও দেখে তাহলে আপনার ভিডিও রাংকে যাবে। কারণ ইউটিউব এটাই চায় যেন দর্শকরা আপনার ভিডিওগুলো পছন্দ করে এবং এক ভিডিও থেকে আরেক ভিডিও দেখে।
এই বিষয়টা অনেক মানুষই এখন পর্যন্ত জানে না বা এটা করে না। ইউটিউবে ভিডিও ভাইরাল করার জন্য আপনারা যতটা পারেন যেভাবে পারেন দর্শক কে বলবেন যেন আপনার অন্যান্য ভিডিওগুলো দেখে। আই কার্ডে একটা ভিডিও দিয়ে বলবেন আপনারা ওই ভিডিওটি দেখে না থাকলে দেখে নিবেন।
এইভাবে যতটা সম্ভব দর্শককে ভিডিও দেখানোর জন্য সাজেস্ট করবেন। ফলে আপনার যে কোন একটা ভিডিও যদি ভাইরাল হয় তাহলে বাকি সব ভিডিওতে অটোমেটিক ভিউজ আসা শুরু হয়ে যাবে।
শেষ কথা
ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিও যেকোনো ব্যক্তি আপলোড করতে পারেন। কিন্তু উপরের নিয়ম গুলো না মেনে চললে কোনদিন সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই একজন সফল ইউটিউবার হতে হলে অবশ্যই আপনাকে এই বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে। ১০০% গ্যারান্টি দিতে পারি উপরের বিষয়গুলো যদি আপনি ফলো করে ইউটিউবে কাজ করেন তাহলে আপনার সফলতা কেউ আটকে রাখতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ।

No comments